বাসিমউদ্দিন তুহিন

অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ।
শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(SUST)


কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে যখনই কোনো কথা হয় আমি সবসময়ই বলি, কেন্দ্রবিন্দু আমার কাছে একটি অনুভূতি। অনুভূতি যেমন মুখে বলে বোঝানো যায় না তেমনি কেন্দ্রবিন্দু আমার জন্য কি তা আসলে মুখে বলে শেষ করা সম্ভব নয়।

আমি যখন কলেজে ১ম বর্ষের ছাত্র তখন পড়ালেখা খুব কমই করেছি বলে আমার মনে পরে। কয়েকদিন পরপর প্রাইভেট টিউটর চেঞ্জ করা যেন আমার জন্য সাধারণ ব্যাপার হয়ে যায়। কোনো জায়গাতেই থিতু হতে পারছিলাম না। ফলাফল, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া। এরপরই আমি জানতে পারি কেন্দ্রবিন্দু সম্পর্কে। যেহেতু আমার ততকালীন অবস্থা বেশ ছানাবড়া ছিল, একটা নতুন শুরু খুবই দরকার ছিল আমার জন্য। তাই চিন্তায় কালক্ষেপণ না করে চলে আসি কেন্দ্রবিন্দুতে। আসার আগে আমি কেন্দ্রবিন্দু সম্পর্কে যতটুকু শুনেছিলাম, আসার পর আমি তার চেয়ে অনেক গুণ বেশিই বিমোহিত হয়েছি। কেন্দ্রবিন্দুর ভাইদের স্নেহ-ভালোবাসা, অনন্যসাধারণ পাঠদান কৌশল, নিয়মিত পরীক্ষা ও বাড়ির কাজের মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা ইত্যাদি যত্নশীল কৌশল ও সহযোগী মনোভাব আমার ছানাবড়া অবস্থার পড়াশোনাকে বেশ বেগবান করে তুলে। যে কোনো সমস্যায় ভাইদের সহযোগিতায় পড়ালেখা বিষয়ক কোনো কিছুতে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল, প্রিটেস্ট, টেস্ট, এইচ.এস.সি এমনকি এডমিশন পর্যন্ত ভাইদের নিবিড় স্নেহ ও পরিচর্যায় একের পর এক এইসব বাধা পের হয়ে আমি আজকের এই অবস্থানে।

উপরওয়ালার অশেষ দয়ায় আজ আমি যে অবস্থানে আছি, তার জন্য কম বাধা পেরুতে হয়নি। কিন্তু এই পথে যাদেরকে আমি সবসময় পাশে পেয়েছি তাদের মধ্যে কেন্দ্রবিন্দুর নাম সদা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা, আমার শ্রদ্ধেয় বাবা-মা এর পরেই যদি আমার আজকের এই অবস্থানের পেছনে কারও কৃতিত্ব থেকে থাকে সে হচ্ছে কেন্দ্রবিন্দু। হ্যাঁ, বলতে কোনো দ্বিধা নেই আমার নিজের চেয়েও আমি কেন্দ্রবিন্দুকেই বেশি কৃতিত্ব দিবো কারণ কেন্দ্রবিন্দু ছাড়া আমার আজকের এই অবস্থান কখনই সম্ভবপর ছিল না।

সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই- নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমী মনোভাব নিয়ে কেন্দ্রবিন্দুর সাথে পথ চললে সেই পথের বাধা সমূহ উতরানো খুব বেশি কঠিন হবে বলে আমি মনে করি না। 🙂