আসিফ আল বায়েস রাহি

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল এন্ড কলেজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববদ্যালয় (BUET)

খুব ছোট থাকতে যখন রেডিও,খেলনা ভেঙ্গে/খুলে ফেলতাম,আম্মু বলত আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে।কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার হওয়াটা আসলে কি বা তার জন্য কি করা লাগবে,কখন থেকে করা লাগবে,কি পড়া লাগবে,কিভাবে পড়া লাগবে-এসবের হাতেখড়ি কেন্দ্রবিন্দুতেই। ফয়সাল ভাইয়াকে আগে থেকেই চেনার সুবাদে ভাইয়াই বলেছিলেন কেন্দ্রবিন্দুর কথা।

আরেকটু পিছন থেকে আসি,স্কুলজীবনে খুব একটা ভাল ছাত্র কখনোই ছিলাম না।আর দশটা ছেলের মত পাঠ্যবইয়ের ফাঁকে রেখে মিসির আলি পড়েছি।রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খেলাধুলা করা বা মুভি দেখেই শৈশবের অনেকটা সময় আমিও পার করেছি।একইভাবেই কলেজ জীবনও চলতে লাগল।একদিন এক ভাইয়া(নির্ঝর) আমাকে অনেকগুলো কথা বলেছিলেন জীবনের নির্মম বাস্তবতা নিয়ে।তখন থেকে পড়াশোনায় কিছুটা আগ্রহ বেড়েছিল,কিন্তু মফস্বল শহরে থাকায় দিক-নির্দেশনার অভাব ছিল।তাই পড়াশোনায় তেমন গতি আসেনি তখনো।
তারও বেশ কিছুদিন পরে যখন বুঝেছি জীবনযুদ্ধটা বেশ ভিন্ন,এখানে জয়ের জন্য লাগবে প্রচুর অধ্যবসায়,তখন সবকিছু অনেকটা গুছিয়ে আনতে শুরু করলাম।আর এই চিন্তাধারার পরিবর্তন টা আসে এইচ.এস.সি এর দ্বিতীয় বর্ষের কোনো এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে,এই দিনগুলোই কেন যেন নিজেকে নিয়ে খুব ভাবিয়ে তোলে।মূল ঘটনায় আসি,কেন্দ্রবিন্দু যাওয়ার কয়দিনের মধ্যেই একদিন অমিত ভাই বললেন,”কে কে বুয়েটে পড়তে চাও?”আমি হাত তুলিনি,সাহস হয়নি।কিন্তু সেদিনই প্রথম বুঝেছিলাম যে তখনো আসলে আমি ভাবিনি যে আমি কি করব জীবনে।এরপর আরো সময় গেল,ধীরে ধীরে একটু আধটু বুয়েটের স্বপ্ন লালন করতে শুরু করলাম,কিন্তু পথটা যে সহজ নয়,তা ঠিকই বুঝেছিলাম।
এইতো মাত্র শুরু,এরপর পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করলাম।অমিত ভাইয়া,ফয়সাল ভাইয়া,সানি ভাইয়া,রাম ভাইয়া প্রতিটা ভাইয়ার ক্লাস দেখতাম আর অবাক হতাম।আমাদের সময় এই চারজন ভাইয়াই ক্লাস নিতেন।উনাদের সাফল্য আর সাফল্যের পিছনের গল্পগুলো শুনতাম আর ভাবতাম আমিও একদিন এমন গল্প করব,সবাই শুনবে।
শেষের দিকে কয়েকদিন মুশিউর ভাইয়া আর শাহীন ভাইয়া ক্লাস নিয়েছিলেন,একটিবারের জন্যও মনে হয়নি ক্লাস কখন শেষ হবে,মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকতাম।এভাবেই কেন্দ্রবিন্দুর প্রতিদিনের পড়াশোনা আর জীবনমুখী গল্পগুলোই আমাকে আজকের ‘আমি’তে পরিণত করেছে। 
স্কুল-কলেজের শিক্ষক,বড় ভাইয়া,কেন্দ্রবিন্দুর প্রতিটি ভাইয়া,আব্বু-আম্মুসহ পরিবারের প্রতিটা মানুষের আমার প্রতি আস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া আমার এতদূর আসা কখনোই সম্ভব হতো না।বিশেষভাবে বললে ফয়সাল ভাইয়াকে আমি সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করেছি আমার ছাত্রজীবনে।কিন্তু কখনোই ভাইয়ার পক্ষ থেকে বিরক্তির ছিটেফোঁটাও পাইনি।
সকলের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমার ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ নিয়ে আমার গল্প শুনতে চায়।
সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই,অনেককেই বলতে শুনি ঘুম,টিভি দেখা,খেলাধুলা,পিসি/ফোন গেইম খেলা ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে পড়াশোনা হচ্ছে না।তাদের সব বাদ দিতে বলছিনা,জাস্ট বলছি,”নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখো,বড় হওয়ার স্বপ্নটাকে নেশার মতো আঁকড়ে ধরো,ছোটখাটো সব নেশা এমনিতেই কেটে যাবে।”

আসিফ আল বায়েস রাহি
২০জুন,২০১৮.